রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যে থাকা ৬টি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য- না জানা থাকলে এখনই জেনে নাও


major-differences-between-state-and-society


NBU 1st Semester Major Political Science Syllabus-এ তোমাদের রাষ্ট্র এবং সমাজের পার্থক্য সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। যারা এই প্রশ্নের উওর পেতে চাও তাদের জন্য আজকের এই ব্লগ পোস্ট। নিম্নে 'রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যে থাকা ৬টি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য'- তুলে ধরা হয়েছে। আশাকরি এই নোট টা তোমাদের কাজে আসবে।।


রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যে থাকা ৬টি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য || Major Differences Between State And Society 

ভূমিকা ; প্রাচীন গ্রিসে রাষ্ট্র এবং সমাজকে অভিন্ন বলে মনে করা হতো। এমনকি রাষ্ট্রের প্রকৃতি সম্পর্কিত আদর্শবাদী বা ভাববাদী তত্ত্বের প্রবক্তারাও রাষ্ট্র এবং সমাজকে অভিন্ন বলে মনে করতেন। তবে রাষ্ট্র এবং সমাজ উভয়ই নাগরিক জীবনের কল্যান করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও এবং উভয়ই নাগরিকদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হলেও রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যে একাধিক ক্ষেত্রে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।  

রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যে যেসব পার্থক্য রয়েছে, তার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হল- 

▪ উদ্দেশ্য গত পার্থক্য 

▪ তৈরির সময়গত পার্থক্য 

▪ কর্ম পরিধি কত পার্থক্য

▪ সদস্যগত পার্থক্য 

▪ নিয়ন্ত্রণগত ক্ষেত্রে পার্থক্য 

▪ ক্ষমতাগত পার্থক্য 

আরও অনেক অনেক নোট পেতে জয়েন করো👉 : আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে

১) প্রথমত ; রাষ্ট্র ও সমাজের উদ্দেশ্য গত পার্থক্য ; 

▪ সমাজ এবং রাষ্ট্র উভয়ই জনকল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে উভয়ের উদ্দেশ্য গত ক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। প্রতিটি রাষ্ট্র গঠিত হয় প্রচুর সংখ্যক উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য নিয়ে। অপরদিকে মানুষ সমাজে থাকে স্বল্প কিছু সুবিধা পাওয়ার জন্য। 

২) দ্বিতীয়ত ;রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে কর্মপরিধিগত পার্থক্য ; 

▪ রাষ্ট্র যেই কাজ করে তার প্রভাব সব নাগরিকের উপর বা বলা চলে সমাজের উপর পড়ে বা পড়তে পারে। কিন্তু সমাজের কাজের প্রভাব রাষ্ট্রের উপর পড়ে না। সমাজের কাছে সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

৩) প্রাচীনতার দিক থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের পার্থক্য ; 

▪ রাষ্ট্র সৃষ্টির বহু পূর্বেই মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছিল। এবং রাষ্ট্র তৈরি হয়েছিল সমাজ সৃষ্টির বহু পরে। তাই বলা চলে রাষ্ট্রের তুলনায় সমাজ অনেক প্রাচীন। 

৪) রাষ্ট্র ও সমাজের সদস্যগত পার্থক্য ; 

▪ সমাজের তুলনায় রাষ্ট্রের সদস্যসংখ্যা কয়েক গুন বেশি। কারণ একটা রাষ্ট্র গঠিত হয় বহু সংখ্যক সমাজের সমন্বয়ে। তাই রাষ্ট্রের সদস্যসংখ্য অনেক অনেক বেশি। কিন্তু সমাজের সদস্য সংখ্যা রাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম।

৫) রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষমতাগতগত পার্থক্য ; 

▪ রাষ্ট্রের কাছে আইনি ক্ষমতা ছাড়াও, চরম, অনিয়ন্ত্রিত এবং অপরিসীম ক্ষমতা হিসাবে সার্বভৌম ক্ষমতা আছে। কিন্তু সমাজের কাছে না আছে আইনি ক্ষমতা আর না আছে সার্বভৌম ক্ষমতা।।

৬) চাহিদা পূরণের বিষয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের পার্থক্য ; 

▪ মানুষের বেশিরভাগ এবং একান্ত প্রয়োজনীয় চাহিদা গুলো একমাএ রাষ্ট্রের মাধ্যমেই পূরণ হয় এবং রাষ্ট্র-ই সেগুলো পূরণ করতে পারে। যেমন- জীবনের নিরাপত্তা, স্বাধীনতার অধিকার, কর্ম সংস্থানের চাহিদা ইত্যাদি। কিন্তু সমাজ- স্বল্পকিছু চাহিদা ছাড়া, রাষ্ট্রের মতো ব্যাপক চাহিদা কখনোই পূরণ করতে পারেনা।।

আরো জানো👉 : উদারনীতিবাদের বিবর্তন ও বৈশিষ্ট্য

এটা পড়ো👉 : রাজনৈতিক তত্ত্ব বা কাকে বলে? রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং গুরুত্ব

আরও পড়ে দেখো👉 ; সাম্য এবং স্বাধীনতার মধ্যে সম্পর্কে আলোচনা করো

এটাও পড়ে দেখো👉 ; নীতিমানবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কী? নীতিমানবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বৈশিষ্ট্য কী?