রাজনৈতিক কী বা রাজনৈতিক তত্ত্বের (Political Theory) সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং রাজনৈতিক তত্ত্বের গুরুত্ব


রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং রাজনৈতিক তত্ত্বের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা

North Bengal University 1st Semester Political Science Major Syllabus-এ যে Political Theory বা রাজনৈতিক তত্ত্বের বিষয়টি রয়েছে, সেই রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং রাজনৈতিক তত্ত্বের গুরুত্ব সম্পর্কে একটা নোট এই ব্লগ পোস্টে শেয়ার করা হবে।।

রাজনৈতিক কী বা রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং রাজনৈতিক তত্ত্বের গুরুত্ব || Definition, Characteristics And Scope Of Political Theory

পলিটিকাল থিওরি বা রাজনৈতিক তত্ত্ব বিষয়টি বোঝার আগে আমাদের পলিটিকাল বা রাষ্ট্রতত্ত্ব ভাগ রাজনৈতিক বিষয়টি বলতে কি বুঝায় এবং তত্ত্ব বলতে কি বুঝায় এই সম্পর্কে একটু ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। 

রাষ্ট্রনৈতিক বা রাষ্ট্রতত্ত্ব :

রাষ্ট্রনৈতিক বা রাজনৈতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অংশ। রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে বোঝায়, রাষ্ট্রনৈতিক বিভিন্ন ধারণা ও সমস্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু তাত্ত্বিক ব্যাখা।

অপরদিকে Theory বা তত্ত্ব ; 

থিওরি বা তত্ত্বের দ্বারা কোনো বিষয়ে যে চিন্তা করা হয় সেই চিন্তার প্রকাশ করা হয়। আর্নল্ড ব্রেখটসের মতে তত্ত্ব বা থিওরি হলো প্রস্তাব বা বিভিন্ন প্রস্তাবের সমন্বয় বিশেষ।।

NBU 1st Semester Major + SEC Political Science- এর সম্পূর্ণ সিলেবাসের A-2-Z নোট বা প্রশ্ন উওর খুবই কম দামে পেতে চাইলে- 8388986727- এই নম্বরে যোগাযোগ করো (শুধুমাত্র কল).

What Is Political Theory || রাজনৈতিক তত্ত্ব কী? বা রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

রাজনৈতিক তত্ত্ব হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজনৈতিক তত্ত্ব হলো রাষ্ট্রনৈতিক  বিষয় সম্পর্কিত। এর প্রধান কাজ হল রাজনৈতিক বিষয়ে কতকগুলি সাধারণ ধারণাকক সূত্র বন্ধ করা। তবে রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃত অর্থ,প্রকৃতি এবং ভূমিকা কী তা নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

রাজনৈতিক তত্ত্ব হলো এমন একটি বিষয় যা রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। রাজনৈতিক তত্ত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা হলো-

G.C.Field এর মতে, আমরা রাজনীতির কথা বলতে যেসব বিষয়ের উল্লেখ করি সেগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত, সঙ্গতিপূর্ণ তাত্ত্বিক আলোচনাই হলো রাজনৈতিক তত্ত্ব।

George Catlin, এর মতে, রাজনৈতিক তত্ত্ব হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং রাজনৈতিক দর্শনের একটা মিশ্রিত রূপ যা সামগ্রিকভাবে সরকারের বিভিন্ন রূপকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রক্রিয়ার উপর দৃষ্টি নিবন্ধন করে। 

আবার, George Sabine-এর মতে, "রাজনৈতিক তত্ত্বটি বিস্তৃতভাবে রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত সমস্ত কিছুকে বোঝায় এবং সংকীর্ণ অর্থে রাজনৈতিক তত্ত্ব হলো রাজনৈতিক সমস্যাগুলির পদ্ধতিগত অনুসন্ধান।"

রাজনৈতিক তত্ত্ব সম্পর্কে David Held, তাঁর 'Political Theory Today' নামক গ্রন্থে বলেছেন- রাজনৈতিক তত্ত্ব হলো 'রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কিত ধারণা এবং একটা সাধারণ তত্ত্বের গুচ্ছ। যেখানে আমরা সরকার, রাষ্ট্র ও সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য, তাদের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য এবং মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্পর্কে অধ্যয়ন করি। 

সুতরাং, বিভিন্ন সংজ্ঞা থেকে আমরা এই সিন্ধান্তে পৌঁছতে পারি যে- রাজনৈতিক তত্ত্ব হলো রাষ্ট্র রাজনীতি সম্পর্কিত বিভিন্ন ধারণার একটি সমষ্টিবদ্ধ রুপ যা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা, রাষ্ট্রের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, রাজনৈতিক ক্ষমতা, সরকার ছাড়াও রাষ্ট্র সম্পর্কিত একাধিক বিষয় সম্পর্কিত ধারণা দিয়ে থাকে।

NBU 1st Semester Major + SEC Political Science- এর সম্পূর্ণ সিলেবাসের A-2-Z নোট বা প্রশ্ন উওর খুবই কম দামে পেতে চাইলে- 8388986727- এই নম্বরে যোগাযোগ করো (শুধুমাত্র কল).

রাজনৈতিক তত্ত্বের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি || Characteristics or Nature Of Political Theory

সময়ের সাথে সাথে মানুষের রাজনৈতিক জীবনের পরিবর্তন ঘটে। আবার রাজনৈতিক তত্ত্ব যেহুতু রাজনীতির সাথে সম্পর্ক, তাই রাজনৈতিক তত্ত্বের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতিরও পরিবর্তন ঘটে। 

প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক তত্ত্বের যে প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় তা হল- 

১) কাল্পনিক রাজনৈতিক তত্ত্ব ; প্রাচীনকালে প্লেটো, অ্যারিস্টটলের সময়কালে বা রাজনৈতিক তত্ত্বের শুরুর দিকে রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতি ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এই সময় সম্পূর্ণ কল্পনা বা অনুমানের ভিত্তিতে রাজনৈতিক তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করা হতো। 

উদাহরণ হিসাবে আমরা প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের কথা বলতে পারি। 

২) নৈতিক রাজনৈতিক তত্ত্ব ; কাল্পনিক রাজনৈতিক তত্ত্বের পর সময়ের পরিবর্তে উনবিংশ শতাব্দীর দিকে রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতি হয় সম্পূর্ণ নৈতিক। এই সময় ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধের প্রশ্নে রাজনৈতিক তত্ত্বকে উপস্থাপন করা হতো। 

প্লেটো, কান্ট, হেগেল, গ্রীন প্রমুখ ছিলেন এরূপ রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রবক্তা। 

৩) রাজনৈতিক তত্ত্বের আইনগত ধারণা ; ফরাসি, ইংরেজ এবং জার্মান রাষ্ট্র দার্শনিকরা আইনগত ধারনায় রাজনৈতিক তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করেন। তারা রাষ্ট্র, মানুষের রাজনৈতিক জীবন এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আইনগত দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করে থাকেন। জন অস্টিন হলেন আইনগত ধারণার প্রধান প্রবক্তা। 

৪) মাকর্সীয় দৃষ্টিকোণে রাজনৈতিক তত্ত্ব ; আধুনিককালে কাল মার্কস, ফ্রেডরিক এঙ্গেলস, ভি.আই.লেনিন, স্টালিন প্রমুখ সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে মার্কসীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনৈতিক তত্ত্বকে উপস্থাপন করেছেন। তারা শ্রেণি ও শোষন মূলক সমাজের বিরোধীতা করে, সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক বিশ্বাসী হয়ে মনে করেন যে, সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই হবে রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রধান লক্ষ্য।

৫) রাজনৈতিক তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক ধারণা ; বিংশ শতকে রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতি ছিল বৈজ্ঞানিক। বিংশ শতকে আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির উদ্ভব হলে রাজনৈতিক তত্ত্বকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা শুরু হয়। বিংশ শতকের সম্পূর্ণ মূল্য নিরপেক্ষভাবে এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিষয়ের শুরু হয়। 

ডেভিড ইস্টন, গ্রাহাম ওয়ালাস, হ্যারল্ড ল্যাসওয়েল হলেন এরূপ রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রবক্তা।।

আরও অনেক অনেক নোট পেতে জয়েন করো👉 : আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে

রাজনৈতিক তত্ত্বের গুরুত্ব কী? ||Importance Or Scope Of Political Theory 

রাজনৈতিক তত্ত্বের যে গুরুত্ব রয়েছে, তা আমরা নিম্নলিখিত ভাবে উল্লেখ করতে পারি। 

প্রথমত ; রাজনৈতিক সমস্যা এবং তার সমাধান নিয়ে আলোচনা ; রাজনীতি তত্ত্ব দ্বিমুখী ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক তত্ত্ব যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমস্যা গুলি তুলে ধরে করে তা নয়। কী করে সেই সমস্যার সমাধান করা যাবে সেটাও ব্যাখ্যা করে যায়। 

দ্বিতীয়ত ; রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি ; 

সঠিক রাজনৈতিক জ্ঞান এবং চেতনা মানুষের রাজনৈতিক জীবনের পরিবর্তন আনে। এবং সকলের রাজনৈতিক জীবনের পরিবর্তনই সমগ্র সমাজ এবং রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখে। রাজনৈতিক তত্ত্ব যে মানুষের রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি করে,সে নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। ফলে রাজনৈতিক তত্ত্ব সঠিক সমাজ গঠনেও ভুমিকা রাখতে পারে। 

তৃতীয়ত ; সমাজ পরিবর্তনের উপায় ব্যখা ; 

রাজনৈতিক তত্ত্ব শুধুমাত্র সমাজ কী, এর উদ্দেশ্য ও কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা করে না। একটা অকাম্য বা জনকল্যাণকর নয় এমন সমাজ কক করে পরিবর্তন করা যাবে সেটাও ব্যাখ্যা করে যায়। উদাহরণ হিসেবে আমরা মার্কসবাদীদের সমাজ পরিবর্তনের কথা বলতে পারি। এছাড়াও রাজনৈতিক তত্ত্বের আরও নানা ধরনের গুরুত্ব রয়েছে।।

আরও জানো👉 ; অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট সম্পর্কে A2Z বিষয়

আরও পড়ে দেখো👉 ; সাম্য এবং স্বাধীনতার মধ্যে সম্পর্কে আলোচনা করো

আরও পড়ে দেখো👉 ; নীতিমানবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কী? নীতিমানবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বৈশিষ্ট্য কী?

এটা পড়ো 👉 : আচরণবাদের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা