না জানলে আজকেই জেনে নাও যে মাৎস্যন্যায় বলতে কী বোঝায়?

প্রশ্ন) মাৎস্যন্যায় বলতে কী বোঝায়? বা মাৎস্যন্যায় কাকে বলে? 

what-was-matsya-nyaya-in-ancient-history-of-bengal

উওর ; স্বাধীন গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বিশাল বাংলাকে শাসন করার মত কোন শক্তিশালী রাজা ছিলেন না। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা এক প্রকার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এই সময় বাংলার সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসে চরম দুঃখ দুর্দশা। কারণ সেই সময় কোন শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসক না থাকায় স্থানীয় সামন্ত রাজারা বা ধনী ব্যক্তিরাই নিজেদের মতো করে দরিদ্র জনগণের উপর নিজেদের শাসন-শোষণ চালাতে থাকে। সেই সঙ্গে বাংলায় চলতে থাকে বিভিন্ন বহিঃ শক্তির বারংবার আক্রমণ। 


আনুমানিক ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় এক শতক ধরে বাংলায় এক চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়ম্’ বলে উল্লেখ করা হয়। সংস্কৃত শব্দ মাৎস্যন্যায়-এর আক্ষরিক অর্থ ‘মাছের ন্যায়। একটি পুকুরে একটি বড় মাছ যেমন ছোট মাছদের বা শক্তিশালী মাছ যেমন দুর্বল মাছদের গ্রাস করে, ঠিক তেমনি ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলায় ঠিক সেরকমই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল যেখানে ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাশালীদের হাতে অত্যাচারিত হতে হতো। বা সেই সময় বড়ো রাজারা ছোটো রাজাদের রাজ্য দখল করার চেষ্টা করতেন। বাংলার সেই অরাজকতা দূর করতে এবং বাংলার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গোপাল আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় স্বাধীন পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে বাংলায় মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটিয়েছিলেন।।