একটা নোটেই সুপ্রিমকোটের গঠন,ক্ষমতা ও কার্যাবলী সহ অন্যান্য যাবতীয় তথ্য

 

Complete note on powers and Functions of the Supreme Court

সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা- সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা- শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ। সরকারের আইন বিভাগ এবং শাসন বিভাগ পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত হলেও বিচার বিভাগ এই দুটি বিভাগ থেকে একটু স্বতন্ত্র। ভারতে অখণ্ড বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ, ভারতে বিচার ব্যবস্থায় সবার শীর্ষে রয়েছে সুপ্রিমকোর্ট, তার নিচে হাইকোর্ট এবং তার নিচে রয়েছে অধনস্থ আদালত সমূহ। 

ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী 

▪ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের গঠন ;

১) ১২৪(১) নং ধারা অনুযায়ী ভারতের কেন্দ্রীভূত অখণ্ড বিচারব্যবস্থার শীর্ষে রয়েছে সুপ্রিমকোর্ট।

২) সুপ্রিম কোর্ট হলো আইনের ব্যাখ্যা কর্তা এবং সংবিধানের রক্ষাকর্তা।

৩) সুপ্রিমকোর্টকে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বা যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত বলা হয়। সংবিধানের ১২৪-৯৪২ নং ধারাগুলিতে সুপ্রিমকোর্টের গঠন বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।

▪ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের গঠন ; 

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ৩১ জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত হয়। 

▪ এদের মধ্যে একজন প্রধান বিচারপতি এবং অন্য ৩০ জন সহকারী বিচারপতি।

▪ সংবিধানের ১২৮ নং ধারায় বলা হয়েছে প্রয়োজনে সুপ্রিমকোর্ট অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ করতে পারবে। 

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি।

▪ বিচারপতি নিয়োগের আগে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়স হলো ৬৫ বছর।

▪ অবসর গ্রহণের পূর্বে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে তাকে পদত্যাগ পত্র পেশ করতে হয়। 

সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর কোনো আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারেন না।


▪ সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের যোগ্যতা, কার্যকাল ও পদচ্যুতি ; 

ভারতের সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে-

(i) বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভারতের নাগরিক হতে হবে,

(ii) তাঁকে অন্তত পাঁচ বছর কোনো হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে কাজ করতে হবে অথবা ১০ বছর একাদিক্রমে কোনো হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করতে হবে।

(iii) এছাড়াও রাষ্ট্রপতির মতে, যদি কোনো ব্যক্তি একজন প্রখ্যাত আইনজ্ঞ হয়ে থাকে,তাহলে সেও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হতে পারে। 

(iv) সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকতে পারেন। 

☆(v) সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিকে পদচ্যুত করতে হলে ইমপিচমেন্ট পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।

অন্যান্য নোট পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেলে জয়েন করো👉 : চ্যানেল লিঙ্ক এখানে

▪ সুপ্রিমকোর্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলি ;

সুপ্রিমকোর্টের কার্যক্ষেত্রকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-

[1] মূল এলাকা

[2] আপিল এলাকা

[3] পরামর্শদান এলাকা

[4] নির্দেশ, আদেশ বা লেখ জারির এলাকা।

[1] সুপ্রিমকোর্টের মূল এলাকা:-

▪ সংবিধানের ১৩১ নং ধারা অনুযায়ী, যেসব বিষয়ের মামলা হাইকোর্ট বা অন্য কোনো অধস্তন আদালতে দায়ের করা যায় না। সেইগুলি সুপ্রিমকোর্টের মূল এলাকার অন্তর্ভুক্ত। আইনগত অধিকারের প্রশ্নে-

(i) কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এক বা একাধিক রাজ্য সরকারের বিরোধ বাধলে অথবা,

(ii) কেন্দ্রীয় সরকার এবং এক বা একাধিক রাজ্য সরকারের সঙ্গে অন্যান্য কয়েকটি বা একটি রাজ্য সরকারের বিরোধ দেখা দিলে অথবা

(iii) দুই ও ততোধিক রাজ্য সরকারের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ দেখা দিলে একমাত্র সুপ্রিমকোর্টই তার নিষ্পত্তি করে। 

(iv) রাষ্ট্রপতি/ বা উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন সংক্রান্ত যে-কোনো বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা সু সুপ্রিমকোর্টের মূল এলাকার অন্তর্ভুক্ত।


[2] সুপ্রিমকোর্টের পিল এলাকা:

আপিল এলাকাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন- ▪ সংবিধানের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত আপিল, 

▪ দেওয়ানি আপিল, 

ফৌজদারি আপিল এবং,

▪ বিশেষ অনুমতিসূত্রে আপিল।

▪ সংবিধানের ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত আপিল ;

▪ সংবিধানের ১৩২ (১) ধারা অনুসারে দেওয়ানি ফৌজদারি বা অন্য যে-কোনো মামলায় হাইকোর্ট যদি এই মর্মে প্রমাণপত্র দেয় যে সংশ্লিষ্ট মামলাটির সঙ্গে সংবিধানের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত, তাহলে ওই মামলার বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করা যায়। 

▪ দেওয়ানি আপিল ; 

১৯৭২ সালে সংবিধানের ৩০তম সংশোধনে বলা হয়, কোনো দেওয়ানি মামলায় হাইকোর্ট যদি এই মর্মে প্রমাণপত্র দেয় যে, সংশ্লিষ্ট মামলাটির সঙ্গে আইনের সাধারণ প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশ্ন জড়িত, তাহলে সেই মামলাটির বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করা যাবে।

▪ ফৌজদারি আপিল ;

ফৌজদারি মামলার বিষয়ে তিনটি ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করা যায়। যথা-

১) কোনো নিম্ন আদালতের রায়ে নির্দোষ বলে প্রমাণিত কোনো ব্যক্তিকে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড দিলে, 

২) নিম্ন আদালতে বিচার চলাকালীন কোনো মামলা নিজের হাতে তুলে নিয়ে ছাইকোর্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে, 

৩) কোনো মামলা সুপ্রিমকোর্টে আপিলযোগ্য বলে হাইকোর্ট প্রমাণপত্র দিলে। 

▪ বিশেষ অনুমতিসূত্রে আপিল ;

সংবিধানের ১৩৬(১) নং ধারা অনুযায়ী ভারতের সামরিক আদালত বা সামরিক ট্রাইব্যুনাল ছাড়া যে-কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালের রায়, আদেশ বা দন্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য সুপ্রিমকোর্ট 'বিশেষ অনুমতি দিতে পারে।

১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংবিধান সংশোধনের পর থেকে হাইকোর্ট কোনো মামলার রায় দেওয়ার সময়েই সুপ্রিমকোর্টে আপিলের অনুমতি দিতে পারে, অথবা বিবদমান কোনো পক্ষের মৌখিক আবেদনের ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ আপিলের অনুমতি দিতে পারে।

▪ সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শদান এলাকা ; 

সংবিধানের ১৪৩ (১) নং ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের কাছে পরামর্শ চাইতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্ট পরামর্শ দিতে বাধ্য আবার কিছু ক্ষেত্রর বাধ্য নয়। 

▪ সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ, আদেশ বা লেখ জারির এলাকা ;

▪ মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তা বলবত্ ও কার্যকর করার জন্য নাগরিকরা সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করতে পারে। 

সুপ্রিমকোর্ট সংবিধানের ৩২ নং ধারা অনুযায়ী মোট পাঁচ ধরনের লেখ (writ) জারি করতে পারে।  বন্দি-প্রত্যক্ষীকরণ, পরমাদেশ, প্রতিষেধ, অধিকারপৃচ্ছা, উৎপ্রেষণ (Habeas Corpus, Mandamus, Certiorari, Quo Warranto, and Prohibition )- সুপ্রিমকোর্ট এই পাঁচ ধরনের নির্দেশ, আদেশ বা লেখ জারি করতে পারে। 

আরও জানো👉 ; অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট সম্পর্কে A2Z বিষয়

এটাও পড়তে পারো👉 ; ভারতীয় সংবিধানের জরুরি অবস্থা এবং জরুরি অবস্থা জারির ইতিহাস 

দেখো তো কেমন জানা আছে👉 ; ইন্ডিয়ান পলিটির উপর একটা মকটেস্ট 

এখানে ক্লিক করো : লোকসভার স্পিকারের উপর সেরা নোট! এটা পড়লে মনে আর কোনো প্রশ্ন থাকবেনা