ডিরোজিও কে? ডিরোজিও স্মরণীয় কেন? নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী বা ইয়ং বেঙ্গলগোষ্ঠী কাদের বলা হতো?

 

ডিরোজিও কে? ডিরোজিও স্মরণীয় কেন? নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী বা ইয়ং বেঙ্গলগোষ্ঠী কাদের বলা হতো?


ডিরোজিওর স্মরণীয় হয়ে থাকার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ডিরোজিও ছিলেন একজন ইঙ্গ পর্তুগিজ পরিবারের সন্ধান। ডিরোজিওর সম্পূর্ণ নাম ছিল হেরনি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও এবং তাঁর ছদ্মনাম ছিল জুভেনিস। ইঙ্গো-পর্তুগিজ পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ভারতীয় বলেই মনে করতেন। রতের প্রতি ডিরোজিওর যে অগাধ প্রেম ছিল, সেটার প্রমাণ পাওয়া যায় তার লেখা 'ফকির অফ জঙ্গিরা' নামক কাব্যগ্রন্থে। 

মাধ্যমিক ইতিহাসের সম্পূর্ণ সিলেবাসের ডিজিটাল টাইপ করা পিডিএফ নোট, খুবই স্বল্পমূল্যে কিনতে চাইলে যোগাযোগ করুন 8388986727 এই নম্বরে। 

তবে ডিরোজিওর স্মরণীয় হয়ে থাকার সবচাইতে বড় কারণ হলো তার নব্য বঙ্গ গোষ্ঠীর গঠন করা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও হিন্দু কলেজে সাহিত্য ও ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। সেখানে তিনি ছাত্রদের কাছে অল্প দিনের মধ্যেই খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তীকালে তিনি প্যারীচাঁদ মিত্র, রসিক কৃষ্ণ মল্লিক,কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়,দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রামতনু লাহিড়ী,রামগোপাল ঘোষ সহ অন্যান্য ছাত্রদের নিয়ে নিয়েই একটি সমাজ সংস্কারক দল গঠন করেন যার নাম হয় ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী বা নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী। তিনি নিজের ছাত্রদের মধ্যে বিশেষ করে সমাজের মানুষের মধ্যে স্বাধীন চিন্তা ও যুক্তিবাদের বিকাশ ঘটানোর জন্য ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি বিতর্ক সভা প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন ডিরোজিও।এছাড়াও পরবর্তীকালে ডিরোজিওর উদ্যোগে এথেনিয়াম এবং পার্থেনন পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তবে ডিরোজিও সমাজ সংস্কারক আন্দোলন শুরু করার কিছুদিন পরেই ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ২৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ডিরোজিও অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করলেও এবং তার ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর আন্দোলন ব্যর্থ হলেও,তারা সমাজ সংস্কার করার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছিল,,সেই কারণেই ডিরোজিও ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী বা ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী সকলের কাছে স্মরণীয়। 


আরও পড়ুন👉 : মাস্টারদা সূর্য সেন স্মরণীয় কেন?


ধন্যবাদ।।